
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):
সামাজিক অবক্ষয় রোধে মেধা ও নৈতিকতার বিকাশ এবং একই সঙ্গে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী সামাজিক উৎসব। উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দকাটি গোলক্লাব মাঠে রবিবার (৩১ মে) বিকেল ৪টায় ‘সু-সন্তান পুরস্কার-২০২৫’, সম্মাননা স্মারক ও সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় গ্রামীণ ঐতিহ্যের মনোজ্ঞ লাঠিখেলা।
আস্থা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সমাজসেবক সিরাজিয়া পারভেজ টুটুলের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিনি নিজেই। কালিগঞ্জ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি এম. হাফিজুর রহমান শিমুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ সাইফুল বারী সফু বলেন “বর্তমান সমাজে মাদক, সন্ত্রাস ও নৈতিক স্খলনের যে মহামারি চলছে, তার মধ্যে সু-সন্তানদের চিহ্নিত করে স্বীকৃতি দেওয়া একটি যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এই সম্মাননা তরুণ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় এবং আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।”
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্যে রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আস্থা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফারজানা পারভীন এবং কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাস বাচ্ছু।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন আল আলিম রাজ তাপস, সভাপতি, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপি। মোস্তফা মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপি। মাওলানা ইউনুস আলী, সহ-সেক্রেটারি, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন জামায়াত। আব্দুল করিম, সভাপতি, ইউনিয়ন যুবদল। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম, সিরাজুল ইসলাম, লাইলি পারভীন এবং পূর্ণিমা রানী মণ্ডলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের মূল পর্বে শিক্ষা, সমাজসেবা ও নৈতিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখায় স্থানীয় আদর্শ সন্তানদের হাতে ‘সু-সন্তান পুরস্কার-২০২৫’ ও বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি, প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যে এলাকার বেশ কয়েকজন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে মাঠজুড়ে শুরু হয় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। ঢোলের চটি আর কাঁসরের শব্দের তালে তালে লাঠিয়ালদের হরেক রকম কসরত, আত্মরক্ষা ও আক্রমণের নিপুণ কৌশল পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। আধুনিক বিনোদনের যুগে গ্রামীণ এই লোকজ সংস্কৃতি সচক্ষে দেখতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-সব বয়সী হাজারো মানুষের ঢল নামে মাঠজুড়ে।
উপস্থিত দর্শনার্থী ও সুধী সমাজ জানান, মানবিকতা, মেধার মূল্যায়ন ও হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধন বর্তমান সময়ে বিরল। বন্দকাটি গ্রামের এই মহতী সামাজিক উদ্যোগটি জেলাজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং প্রশংসিত হয়েছে।



