সোলায়মান মামুন, কালিগঞ্জ থেকে :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া, ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়া এবং একাডেমিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, শিক্ষকদের জিম্মি করে নিজেদের পক্ষে জোরপূর্বক প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে এই প্রতিষ্ঠানে।
প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠে আসার পর শিক্ষার্থীরা এর জবাবদিহিতা চেয়ে মানববন্ধনের উদ্যোগ নেয়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মানববন্ধন ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের অফিস কক্ষে ডেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং তাদের প্রস্তুতকৃত ব্যানার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সোমবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর ও আইটি শিক্ষক শিমুল হোসেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি দিলে শিক্ষার্থীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।
একই দিন বিকেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিক্ষকদের অফিস কক্ষে ডেকে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে একটি প্রতিবাদপত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। যে সকল শিক্ষক এতে আপত্তি জানিয়েছিলেন, তাদের শোকজসহ নানা ধরনের ভয় দেখানো হয়। পরিশেষে চাকরির নিরাপত্তার কথা ভেবে অধিকাংশ শিক্ষক সেই প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশ জানিয়েছেন, অধ্যক্ষের এমন কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষকরা চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন এবং প্রতিবেদকের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

