যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) বা ইসলামাবাদ সমঝোতাকে ‘আমেরিকার পরাজয়ের ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ। আজ বুধবার (২৪ জুন) এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সমঝোতা কোনো চাপ বা জোরপূর্বক গৃহীত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি ইরানি জাতির অটল প্রতিরোধ ও সক্ষমতার ফসল।
ইসলামাবাদ সমঝোতা: পাকিস্তান ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর পরবর্তী ৬০ দিন উভয় পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কাজ করবে।
মতবিরোধ এখনো বিদ্যমান: যুদ্ধ থামানোর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে।
পরমাণু পরিদর্শন বিতর্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান দীর্ঘমেয়াদী এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরমাণু পরিদর্শনে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান দাবি করছে, কোনো পরিদর্শনের সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং ধ্বংস হওয়া পরমাণু সাইটগুলোতে পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তির আওতাভুক্ত হবে।
মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া: সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধ ও সমঝোতাকে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি ‘কৌশলগত ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও নাবিক উদ্ধার: ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) জানিয়েছে, এই সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধারের জন্য একটি বড় ধরনের অভিযান শুরু হচ্ছে। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় দেশগুলো সফরকালে হরমুজ প্রণালিতে ইরান কর্তৃক কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আরোপের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আগামী পদক্ষেপ: দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে এই চুক্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করতে কূটনৈতিক সফর করছেন।
সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও শান্তি প্রক্রিয়া এখনো বেশ ভঙ্গুর এবং দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরনের টানাপোড়েন বজায় রয়েছে।

