
মোঃ ইশারাত আলী :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশনে নেমেছে যৌথ বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লের বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয়েছে অবৈধভাবে মজুদকৃত বিপুল পরিমাণ ডিজেল। অভিযানের আগে খবর পেলে খালি করে ফেলে ১৬ ব্যারেল। তড়িঘড়ি ৬ ব্যারেল সরাতে না পেরে আটকে যায় যৌথবাহিনীর অভিযানে।
মৌতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লের নিজ বাসভবন ও ব্যক্তিগত গোডাউন থেকে ৬ ব্যারেল ভর্তি ১২০০ লিটার ডিজেল এবং ১৬টি খালি ব্যারেল সহ মোট ২২টি তেলের ব্যারেল পাওয়া যায়। জেলা ডিজিএফআই-এর তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও র্যাবের একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। সাতক্ষীরা আর্মি ক্যাম্প ইনচার্জ এর নেতৃত্বে ছিলেন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার তোফাজ্জল।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইস্তিয়াক আহমেদ অপু তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ মজুদের দায়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ফেরদাউস মোড়লকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং জব্দকৃত তেল রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। ১৬টি খালি ব্যারেল ফেরদাউস মোড়লের জিম্মায় দেন এবং তিনি এমন কাজ করবেননা মর্মে মুচেলকা প্রদান করেন।
জেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইস্তিয়াক আহমেদ অপু বলেন “সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে যারা জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই অভিযান একটি শক্ত বার্তা। অসাধু সিন্ডিকেট যেখানেই থাকুক, তাদের আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ দিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুদ করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছিল। একজন জনপ্রতিনিধির ঘর থেকে এভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যৌথ বাহিনীর এই ‘হার্ড-হিটিং’ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে সাধারণ মানুষ অসাধু ব্যবসায়ীদের দমনে এমন পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
কালিগঞ্জে তেল মজুদের বিরুদ্ধে অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহবায়ক মোঃ রোকোনুজ্জান। তিনি বলেন এভাবে অভিযান অব্যাহত থাকলে কৃষকরা তেল পাবে। তেলের কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট এড়াতে প্রশাসন অভিযান অব্যাহত রাখলে কৃষক বাঁচবে।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম বলেন, তার ব্যবসা আছে। একজন ব্যবসায়ীর ১২০০ লিটার তেল লাগতেই পারে। এটি একটি ষঢ়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়। যার মাধ্যমে তাকে হেয় পতিপন্ন করা হয়েছে।
মৌতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট করার জন্য ফেরদাউস চেয়ারম্যান যথেষ্ট। তিনি জনগনের চেয়ারম্যান হলে কৃষকের ডিজেল তার বাড়ী থাকতোনা। তিনি ফ্যাসিস্টদের দোষর হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর ব্যবসায়িক পার্টনার
‘তবে তেল মজুদ করা ঠিক হয়নি’- স্বীকার করে ফেরদাউস মোড়ল বলেন। তিনি এখন থেকে নিয়ম মেনে কৃষি অফিস ও ইউএনও বরাবর আবেদন করে তেল সংগ্রহ করবেন বলে জানান।
যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং জনস্বার্থে জেলাজুড়ে এই ‘চিরুনি অভিযান’ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।



