
মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকে :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের খাজাবাড়িয়া গ্রামে ক্ষমতার দাপটে জনসাধারণের চলাচলের বহু বছরের পুরোনো একটি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেনাবাহিনীতে কর্মরত এক সদস্য ও তার পরিবারের প্রভাব খাটিয়ে জনপথ দখল করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি পরিবার। বছরের পর বছর ধরে কয়েকটি পরিবার কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ অবস্থায় থাকলেও প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাজাবাড়িয়া মৌজার (জেএল নং ৮৮, বিআরএস ২৫ খতিয়ান) ১৯৯ নম্বর দাগভুক্ত রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অনুপযোগী করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘকাল ধরে এটিই ছিল তাদের প্রধান যোগাযোগের পথ।
অভিযোগের তির মৃত আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল বারী এবং তার দুই ছেলে একজন সেনাবাহিনীতে কর্মরত মোঃ মনিরুল ইসলাম ও ইয়াসিন রহমানের দিকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে পেশীশক্তির জোরে রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন।
রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নারী, শিশু এবং বয়োবৃদ্ধরা। ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক মোড়ল, মোকছেদ আলী, ও সেলিনা খাতুনসহ একাধিক বাসিন্দা জানান অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অবরুদ্ধ পরিবারগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আনা নেওয়ার সময় গালিগালাজের স্বিকার হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ৭ জন এলাকাবাসী মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিমের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তবে অভিযোগের এক মাস পার হয়ে গেলেও দৃশ্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মোঃ আব্দুল মালেক বলেন “আমরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ কথা বলছে না। আইনের লোক হয়ে জনপথ বন্ধ করা কোন ধরনের মানবিকতা?” ক্ষোভের সাথে জানান এক ভুক্তভোগী।
এব্যাপারে মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। রাস্তা বন্ধ করার অধিকার নেই। আমি দ্রুত বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এলাকাবাসীর দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষমতার দাপটে জনসাধারণের মৌলিক অধিকার খর্ব হতে পারে না। অবৈধভাবে স্থাপিত বাধা অপসারণ করে দ্রুত রাস্তাটি উন্মুক্ত করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
খাজাবাড়িয়ার এই মানবিক সংকট নিরসনে প্রশাসন কি শেষ পর্যন্ত জনস্বার্থ রক্ষা করবে, নাকি প্রভাবশালী মহলের দাপটের কাছে হার মানবে সাধারণ মানুষ-এখন সেটিই দেখার বিষয়।



