নিজেস্ব প্রতিবেদক :
পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে খুলনা বিভাগসহ দেশ-বিদেশের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশের সকল মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষকে পবিত্র ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও 'ঈদ মোবারক' জানিয়েছেন জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র কেন্দ্রীয় ও খুলনা বিভাগীয় সংগঠক কাজী ইউসুফ কবির।
এক শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদ-উল-আজহা প্রতিবছরই আমাদের মাঝে এক মহান ত্যাগের বার্তা নিয়ে ফিরে আসে। পশু কোরবানির বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার অন্তরালে প্রকৃত শিক্ষা হলো-নিজের ভেতরের অহংকার, স্বার্থপরতা ও পশুবৃত্তিকে বিসর্জন দেওয়া। তবে এই ত্যাগের আনন্দ ও মহিমা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ, বিশেষ করে আমাদের মেহনতি ও শ্রমজীবী ভাইয়েরা সেই আনন্দের সমান অংশীদার হতে পারবেন।”
ইসলামের মানবিক ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমাদের অর্থনীতি ও দেশের চাকা সচল রাখার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান এদেশের আপামর শ্রমিক সমাজের। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনরাত পরিশ্রম করা এই খেটে খাওয়া মানুষের মুখে ঈদের পবিত্র ক্ষণে হাসি ফোটানো আমাদের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”
কোরবানির মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে কাজী ইউসুফ কবির বলেন, “কোরবানি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি সামাজিক বৈষম্য দূর করার একটি অনন্য মাধ্যম। ইসলামে কোরবানির গোশত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বণ্টন করার যে বিধান রয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্যই হলো—সমাজের কেউ যেন আনন্দের এই দিনে পুষ্টিকর খাবার ও উৎসবের স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হন।”
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র এই শীর্ষ সংগঠক সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আসুন, আমরা আমাদের কোরবানির আনন্দের একটি বড় অংশ উৎসর্গ করি চারপাশের খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য। তাদের ন্যায্য অধিকার ও পাওনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই হোক এবারের ঈদের মূল অঙ্গীকার। ত্যাগের, সৌহার্দ্যের ও মানবিকতার মহিমায় উদ্ভাসিত হোক সবার জীবন।”