মোঃ ইশারাত আলী :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িযা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মহেশ্বরপুর খালটি অবমুক্ত করেছে স্থানীয় সাধারণ জনগণ। দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ আটকে রাখায় সৃষ্ট তীব্র জলাবদ্ধতায় ১০টি গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার চরম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছিল। অবশেষে ভোগান্তি থেকে বাঁচতে স্থানীয় জনসাধারণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছেন।
আজ ১৭ মে (রবিবার) সকাল ১১টায় সরেজমিন গেলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মহেশ্বরপুর খালের ওপর অবৈধভাবে বাঁধ দেওয়ার ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর ফলে মহেশ্বরপুরসহ আশপাশের ১০টি গ্রামের সাধারণ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। শুধু তাই নয়, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকার শত শত বিঘা জমির আমন ধান ও সবজি চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। একইসাথে জলাবদ্ধতার কারণে বহু চাষীর পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে কোটি টাকার অর্থনৈতিক লোকসানের মুখে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এমতাবস্থায় এলাকার কৃষি, মৎস্য সম্পদ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা রক্ষার্থে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন স্থানীয় জনতা। ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো: আব্দুস সাত্তারের উপস্থিতিতে ও নেতৃত্বে খালের অবৈধ বাঁধটি কেটে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
বাঁধ অপসারণের সময় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ভুক্তভোগী কৃষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— মো: গোলাম মোস্তফা, নুর ইসলাম গাজী, সিরাজুল ইসলাম, আয়ুব আলী, জাহাঙ্গীর সরদার, হামিদ সরদার, শেখ আকবর, আঃ কুদ্দুস, শোকের আলী গাজী এবং মোজাফফর গাজীসহ দুই শতাধিক গ্রামবাসী।
এ সময় খালের বাঁধ কাটায় অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী কয়েকজন চাষী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের খামখেয়ালিপনায় খালের পানি আটকে রাখায় আমাদের আমন ধান মাঠেই পচে যাচ্ছিল, সবজি ক্ষেত নষ্ট হচ্ছিল এবং অনেকের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। আমরা বারবার বলেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আজ মেম্বার সাহেব ও গ্রামবাসী মিলে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে খালটি উন্মুক্ত করেছি। এখন দ্রুত পানি নামতে শুরু করায় আমরা স্বস্তি পাচ্ছি।"
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: আব্দুস সাত্তার জানান, "জনগণের জানমাল এবং ফসল রক্ষা করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ করে ১০টি গ্রামের মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। আমন ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল। আজ সর্বসাধারণের দাবির মুখে এই খালের বাঁধ কেটে পানি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।"
মহেশ্বরপুর খালটি মুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিনের অভিশাপ ও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলায় ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের সাধারণ মানুষ, কৃষক ও মৎস্য চাষীদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের জোয়ার বইছে। এলাকার কৃষি অর্থনীতি সচল রাখতে এই খালে যেন আর কেউ নতুন করে বাঁধ দিতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও স্থায়ী হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।