নিজেস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করার এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। খোদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা, পক্ষপাতিত্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুলিশের ‘অপারগতার’ সুযোগ নিয়ে এলাকায় মব কালচার ও দখলদারিত্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের মাদকাটি গ্রামের প্রবাসী জাফর আলী গাজীর পরিবার এখন ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায়। জমি নিয়ে বিরোধে আদালত ১৪৫ ধারায় স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও ওসি জুয়েল হোসেন তা কার্যকর করতে রহস্যজনকভাবে অস্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগী সালমা বেগমের অভিযোগ, আদালতের কাগজ জমা দেওয়ার পর ওসি উল্টো নিজেকে ‘অপারগ’ বলে দাবি করেন। এই সুযোগে প্রতিপক্ষ মহব্বত ও জাহাঙ্গীর সেখানে অবৈধভাবে ঘর তুলে নিয়েছে।
রতনপুর ইউনিয়নের দুলাবালা গ্রামে চিত্রটি আরও বিভীষিকাময়। প্রতিপক্ষের হামলায় আলমগীর হোসেনসহ তার প্রতিবন্ধী পিতা ও স্ত্রী বর্তমানে হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। স্বজনদের দাবি, হামলার সময় বারবার ফোন করা হলেও ওসি কোনো ব্যবস্থা নেননি। স্থানীয়দের মতে, ওসির এই নীরবতা মূলত হামলাকারীদের প্রতি এক ধরনের ‘মৌন সমর্থন’।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি অনুযায়ী, ওসির বিরুদ্ধে মূলত ৪টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে:
১। উচ্চ বা নিম্ন আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশ কার্যকর না করা। ২। ক্ষতিগ্রস্তরা থানায় গেলে আইনি সহায়তা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া। ৩। প্রভাবশালী ও হামলাকারীদের সাথে ওসির গোপন আঁতাত। ৪।জরুরি প্রয়োজনে ফোন দিলেও সাড়া না দেওয়া।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান এবং সাংবাদিকদের আদালতের শরণাপন্ন হতে বলেন। আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না-এমন প্রশ্নে তিনি নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলেন, "আদালতের আদেশের কপি আমি পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য বা করণীয় নেই।"
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে ওসির অপসারণ দাবি করছেন। সাজিদ কিং নামে একজন সরাসরি অভিযোগ করেছেন, থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তার কাছে ৫০০০ টাকা দাবি করেছেন। রবিউল ইসলাম ও সিহাব আল দ্বিনের মতো অনেকেই প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে ওসির দ্রুত ‘ক্লোজ’ করার দাবি জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যেই ভুক্তভোগীরা সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের দাবি একটাই-দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বর্তমান ওসিকে প্রত্যাহার করে কালিগঞ্জে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা হোক।
আইনের রক্ষক যখন নিজেই উদাসীন হন, তখন সমাজ বিচারহীনতার অন্ধকারে ডুবে যায়। কালিগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলো অবিলম্বে খতিয়ে দেখা না হলে এই জনপদে বড় ধরনের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।